গল্প শুনতে কার না ভালো লাগে। আবার যদি সে গল্প হয় বিজ্ঞানের আলোকে রাঙানো, তবে কেমন হয় বলতো? ছোট বেলায় আমরা সবাই গল্প পড়েছি,শুনেছি বা দেখেছি এবং উপলব্ধি করেছি প্রকৃতির গভীর রহস্য কে বিভিন্ন ঘটনার ঘনঘটায়। তাতে একটা জিনিস আমাদের মস্তিষ্কে প্রবল ভাবে একাধিপত্য লাভ করে যে প্রকৃতির এই বিস্তীর্ন রহস্য জালের মধ্যে কার্য কারন সমন্বিত কোনো না কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে। যার সাহায্যে ভেদ করা যায় অবিশ্বাস্য কিছু ঘটনার মায়া জাল কে। গল্প শেষ করে মনে হয়, কতই না জটিল পথ বিজ্ঞানের পুঙ্খানুপুঙ্খ সরল বিশ্লেষনে হয়ে যায় কতই সাধারন।
আজ সেই পথে পা বাড়িয়ে আমরা কিছু গল্পের সূচনা করছি যা আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে যেমনি যুক্তি তর্কের জাল খাঁড়া করবে তেমনি আনন্দ আর উচ্ছাসের মধ্যে বাতলে দেবে সমাধানের পথ।
প্রতিটি গল্পের সাথে নীচে থাকছে একটি কুইজ প্রতিযোগিতা। যার প্রশ্ন গুলি গল্প থেকে নেওয়া। যা আমাদের কল্পনা শক্তি তথা বুদ্ধি মত্তা কে আরও বিকশিত করবে। কুইজের প্রশ্ন গুলি এমন ভাবে সাজানো আছে যাতে প্রথম পাঁচটি প্রশ্ন গল্প থেকে নেওয়া সাধারন প্রশ্ন ও পরের দুটি প্রশ্ন কল্পনা শক্তি কে চাগিয়ে তোলার প্রশ্ন ও পরের তিনটি প্রশ্ন থাকবে চিন্তাশক্তির আলোকে, যা আমাদের মনের স্পৃহা কে আরও একটু চাগিয়ে তুলবে।
এসো গল্প শুরু করা যাক………………………………
আমাদের প্রথম গল্প।
ছোট্টো চিরকুট
আজ থেকে অনেক দিনের আগের ঘটনা। তখন চারিদিকে এতো যানবহন ও ছিল না। সবাই খাওয়ার তাগিদে মাঠে ঘাটে খাটা খুটি করত।। কেউ বা কখনও না খেয়ে দিন গুজরান করত। সুখ সাছ্যন্দে ভরা থাকত কেবল রাজমহলের সভাসদ বর্গদের জীবন যাপন।
এরকম এক সময়ে এক প্রত্যন্ত গ্রামের এক কোনে বাস করত এক চাষা। চাষার দুই ছেলে। তাদের মা বিনা চিকিৎসায় মারা গিয়েছে বহুদিন আগে। চাষা প্রতিদিন লোকের বাড়িতে খেটে খুটে যা পেত তাই দিয়ে তাদের দুই ছেলের নিত্য নৈমত্যিক জীবন চালিয়ে নিত। জীবন চলছিল সহজ সাধারনের মত।
কিন্তু চাষী ছিল খুব চিন্তায় তার দুটি ছেলে কোনো কাজই করত না সারাদিন হৈ হুল্লোড় করে কাটিয়ে দিত। তার কোনো কথায় শুনত না।
তাই একদিন সে তার দুটি ছেলে কে ডেকে বলল “তোরা তো নিজেদের মত করে কাটিয়ে দিচ্ছিস কোনো কাজই শিখছিস না, আমি চলে গেলে তোরা খাবি কি?”
ছেলেরা উত্তর দিল- “ তা তো জানিনা, তবে ঠিক চলে যাবে।”
এই কথা শুনে চাষী মনে মনে ভাবল, বাবা হিসেবে আমার একটা তো কর্তব্য আছে। তাই আমাকে এদের ভবিষ্যতের জন্য কিছু একটা ব্যাবস্থা করে যেতে হবে।
এই ভেবে সে তার নিজের মত ব্যাবস্থা করে ছেলেদের কে ডাকল ডেকে বলল যে- “ আমার তো কোনো সম্পত্তি নেই তাই আমি যেদিন মারা যাব, সেদিন শ্রাদ্ধ শান্তির পরে তো ওই পাশের বট গাছের নীচে এক হাত মত খুঁড়বি আর একটা কৌটা পাবি, ওই কৌটার মধ্যে যা আছে তা দিয়ে তোদের সারাজীবন চলে যাবে। তবে আমি বেঁচে থাকলে কিন্তু খুঁড়িস না তাহলে কিছুই পাবিনা”
ছেলেরা তার কথা শুনে যে যার নিজেদের মত খেলতে চলে যায়।
ঠিক তিন মাস পরে চাষী মারা গেল। কথা মত তাদের ছেলেরা শ্রাদ্ধ শান্তির পর বট গাছের নীচে খুঁড়ল ও একটি কৌটা দেখতে পেল। তাদের মনে তো খুব আনন্দ, তারা ভাবল এর মধ্যে কতই না কিছু আছে। যা তাদের সারাজীবনের সম্পদ। কিন্তু খুলে দেখা গেল। একটি ছোট কাগজ। আর তাতে কিছু একটা লেখা।
মন খারাপ হলেও ছেলেরা কাগজটিকে ভাল করে পড়ল ও পটলা পুটলি বেঁধে বেরিয়ে পড়ল রাস্তায়। বাব নেই তাদের কিছু না কিছু তো উপার্জনের চেষ্টা করতে হবে।
হাঁটতে হাঁটতে তারা পৌঁছল এক রাজ প্রাসাদে। প্রাসাদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল এক রক্ষী।তাকে ডেকে প্রথম ভাই বলল যে “ আমরা রাজা মশাই এর সাথে দেখা করতে চাই”
দ্বিতীয় ভাই বলল “রাজা মশাই কে গিয়ে বলুন যে এমন দুজন এসেছে যারা ম্যাজিক জানে। তাদের চোখের সামনে কোনো লুকানো জিনিস থাকলে না দেখে বলে দিতে পারবে যে ওর মধ্যে কি আছে।”
রক্ষী তো অবাক। সে তাড়া তাড়ি ছুটে গিয়ে রাজা মশাই কে সব কিছু জানাল।
রাজামশাই একটু ভেবে নিয়ে রক্ষী কে দুইভাই কে নিয়ে আসতে বল। এবং একজন সেনাপতিকে আদেশ দিল যে বাক্সের মধ্যে কিছু একটা রেখে লুকিয়ে নিয়ে আসতে।
সমস্ত সভাসদ বর্গ বসল জাঁকিয়ে। এই ম্যাজিকের কথা তারা এই প্রথম শুনল। তারা ভেবে উঠতে পারল না এটা কিভাবে সম্ভব? সবাই মিলে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে লাগল। কেউ বলল অবাস্তব যতসব বুজরুকি। কেউ বলল না হতেও পারে হয়ত দুই ভাই মন্ত্র জানে………… ইত্যাদি।
রাজা মশাই সেনাপতি কে ডেকে পাঠাল। সেনাপতি সভার মধ্যে একটি টেবিলের ওপর একটা বাক্স নিয়ে এসে রাখল।
রাজামশাই বল “কি হে দু ভাই কোম্পানী এসো দেখি তোমাদের জাদু দেখাও। বলদেখি এই বাক্সের মধ্যে কি আছে?”
কারও কথায় কোনোরূপ বিচলিত না হয়ে তাদের মধ্যে প্রথম ভাই উঠে এল। ও বাক্স টা কে নিয়ে নাড়াচাড়া করল। তার পর কিছুনা বলে চেয়ারে বসে পড়ল।
এমত অবস্থায় দ্বিতীয় ভাই উঠে দাঁড়াল, ও প্রথম ভাই এর সাথে কি সব আলোচনা করে বাক্সটির সামনে গেল। ও প্রথম ভাই এর মতই নাড়াচাড়া করে চুপটি করে দাঁড়িয়ে চারিদিকে দেখতে লাগল।
রাজামশাই জিজ্ঞেস করল “কি ভাতৃদ্বয় উদ্ধার হল? বাক্সটির মধ্যে কি আছে?”
দ্বিতীয় ভাই বলল” হ্যাঁ রাজা মশাই উদ্ধার হয়েছে বই কি, বাক্সটির মধ্যে একটি কাচা তরমুজ আছে।
সবাই তো অবাক, রাজামশাই ও অবাক হয়ে বলল সত্যি তাই এর মধ্যে কাচা তরমুজ আছে? সেনাপতি দেখ তো বাক্সটা কে ভেঙ্গে।
সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রিল দুই ভাই এর দিকে।
রাজামশাই বলল- “ এ তো একেবারে অবাস্তব। তোমরা জানতে পারলে কি করে যে সেনাপতি একটি তরমুজ কে বাক্স বন্দি করে নিয়ে এসেছে?” তোমরা কি জাদু জানো?
প্রথম ভাই বলল “ আমাদের বাবা কিছু দিন আগে মারা গিয়েছে, আমরা কিছু করিনা দেখে বাবা মৃত্যুর আগে আমাদের জন্য একটি ছোটো চিরকুট রেখে দিয়ে গিয়েছিল আমাদের বাড়ির উঠোনে একটি গাছে গোড়ায়। তাতে লেখা ছিল- পরীক্ষা, পর্যবেক্ষন ও সীদ্ধান্ত। এই তিনটি শব্দ। আমরা সেই তিনটি শব্দই কেবল মাত্র কাজে লাগিয়েছি।”
রাজামশাই বলল কিরকম?
রাজামশাই বললঃ- “ আচ্ছা তা নইলে বোঝা গেল বাক্সের মধ্যে একটি গোলাকার বস্তু আছে। কিন্তু তা যে তরমুজ তা কি ভাবে?”
দ্বিতীয় ভাই বললঃ- “ আমি এর পর ভাবতে লাগলাম এই বাক্স টা এসেছে কোথা থেকে, পরে দেখলাম, যে সৈন টি এই বাক্সটিকে নিয়ে এসেছে তার ঘোড়ার একটি চোখ অন্ধ, আর আমরা যে রাস্তা দিয়ে এসেছিলাম তার এক ধারের ঘাস নেই। সুতরাং এটা প্রমানিত হয় যে ওই রাস্তা দিয়ে সৈন্য টি এই বাক্সটা ঘোড়ায় চেপে নিয়ে এসেছিল। আর ওই রাস্তা টি সোজা একটি তরমুজ বাগানের দিকে গিয়েছে। আর তরমুজ গোল। তাই বলা যায় এটা তরমুজ।”
প্রথম ভাই বললঃ- “ রাজা মশাই এখন এই সময় বাগানের তরমুজ কাচায় আছে, পাকতে এখন এক মাস”
সভাগৃহ হাততালি তে ভরে গেল। সবাই ধন্য ধন্য করতে লাগল।
রাজামশাই দুই ভাই কে বুকে জড়িয়ে ধরে বলল “তোমাদের এখন কোনো কাজ নেই তো আমি দেব কাজ তোমরা রাজ প্রাসাদ ছেড়ে যেওনা।”